বিপিএল ক্রিকেট বেটিং করার সময় যে পিচ কন্ডিশন অনেকেই এড়িয়ে যান

দায়িত্বশীল বেটিংয়ে পিচ কন্ডিশন জানা জরুরি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সঠিক ম্যাচ প্রেডিকশনের মূল ভিত্তি হলো পিচ কন্ডিশনের নিখুঁত বিশ্লেষণ। আমাদের ট্রেডিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিপিএল ম্যাচের প্রায় ৬৪% ফলাফলের প্রাথমিক গতিপথ নির্ধারিত হয় উইকেটের আচরণ এবং টসের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে। আপনি যদি TK11 প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ বিশ্লেষণ করে বাজি ধরেন, তবে কেবল খেলোয়াড়দের নামের ওপর নির্ভর করা একটি বড় ভুল হতে পারে। উইকেটের মাটির ধরন, আর্দ্রতা এবং টুর্নামেন্টের অগ্রগতির সাথে সাথে উইকেটের পরিবর্তন কীভাবে অডসকে (Odds) প্রভাবিত করে তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা বিপিএল ক্রিকেট বেটিং এর প্রতিটি পিচ পরিস্থিতি গাণিতিক এবং ট্রেডিং দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করব, যাতে নতুন ব্যবহারকারীরা যেকোনো দ্বিধা কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মিরপুরের মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসের রান প্রেডিকশন

ঢাকা শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ ঐতিহাসিকভাবেই মন্থর এবং নিচু বাউন্সের জন্য পরিচিত। এখানে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর সাধারণত ১৪২ থেকে ১৫৫ রানের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। আমাদের অডস ট্রেডারদের গণনা অনুযায়ী, মিরপুরে ১৫০ রানের বেশি যেকোনো স্কোর তাড়া করে জেতার সম্ভাবনা মাত্র ৩৮%। নতুন বেটররা প্রায়ই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দেখে বড় স্কোরের ওপর বাজি ধরেন, যা ঢাকার মাঠে চরম ঝুঁকি তৈরি করে। পিচে যদি কালো মাটির আধিক্য থাকে, তবে বল উইকেটে পড়ে কিছুটা থেমে আসে এবং গ্রিপ করে, যা স্পিন বোলারদের কার্যকারিতা প্রায় ৪৫% বাড়িয়ে দেয়।

ব্যবহৃত উইকেটে পাওয়ারপ্লে রান ও বুকমেকারদের লাইন পরিবর্তন

যখন একটি ম্যাচ পুরনো বা ব্যবহৃত উইকেটে অনুষ্ঠিত হয়, তখন বুকমেকাররা প্রথম ৬ ওভারের রান সংখ্যা (Powerplay Runs) এবং মোট ইনিংস রানের লাইন বেশ কম নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, স্বাভাবিক উইকেটে পাওয়ারপ্লে লাইন যদি ৪৬.৫ থাকে, তবে মিরপুরের স্লো পিচে তা সরাসরি ৪১.৫ বা ৪২.৫-এ নেমে আসে। এখানে ইমপ্লাইড প্রবাবিলিটি (Implied Probability) হিসাব করে বাজি ধরা প্রয়োজন। যদি প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে ৬ ওভার বল করার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে রান রেট ৭.০ এর নিচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আপনি যদি লাইভ মার্কেটে রান আন্ডার (Under) অপশনে মনোযোগ দেন, তবে জয়ের সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

স্ট্রাইক রোটেশনে দক্ষ ব্যাটারদের প্লেয়ার প্রপস বেটিং

মিরপুরে প্রথম ওভার থেকে বল টার্ন করতে শুরু করলে দলীয় রানের লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত সংশোধন করা উচিত। অনেক ব্যাটার বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ আউট হন। ট্রেডিং ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, ঢাকার মাঠে সংগৃহীত রানের প্রায় ৫২% আসে সিঙ্গেলস ও ডাবলস থেকে, যেখানে বাউন্ডারি থেকে আসে মাত্র ৪৮%। এই ডাটা মাথায় রেখে যেসব ব্যাটার স্ট্রাইক রোটেট করতে দক্ষ, তাদের প্লেয়ার প্রপস (Player Props) মার্কেটে ওভার (Over) রান নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেটে টস ও শিশিরের প্রভাব

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচ সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করে। এটি একটি খাঁটি ব্যাটিং বান্ধব উইকেট যেখানে ট্রু বাউন্স এবং সমান পেস পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর ১৭২ রান, এবং এখানে বাউন্ডারি হওয়ার হার ঢাকা অপেক্ষা প্রায় ২৮% বেশি।

সান্ধ্যকালীন ম্যাচে শিশিরের প্রভাব ও স্পিন বোলারদের সীমাবদ্ধতা

এই মাঠে কোনো দলের ১৮০ রানও নিরাপদ নয়, কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে সান্ধ্যকালীন আর্দ্রতা ও শিশির (Dew) ফিল্ডিং দলের জন্য বল গ্রিপ করা কঠিন করে তোলে। শিশিরের কারণে স্পিনারদের কার্যকারিতা প্রায় ৩৫% কমে যায়, ফলে রান তাড়া করা দলের জেতার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।

চট্টগ্রামের মাঠে টস জয়ী অধিনায়ক চোখ বন্ধ করে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাতের ম্যাচে চট্টগ্রামে দ্বিতীয়বার ব্যাটিং করা দলের জয়ের হার ৬২%। যখন শিশির পড়ে, তখন বুকমেকাররা লাইভ অডস দ্রুত পরিবর্তন করে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভারে যদি জয়ের জন্য ১০০ রানও প্রয়োজন হয়, তবুও তাড়া করা দলের অডস ১.৮৫ এর আশেপাশে থাকে, কারণ আর্দ্র পিচে ভিজে যাওয়া আউটফিল্ডে বোলিং নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ওভার-আন্ডার বাউন্ডারি মার্কেট ও ম্যাচ সিক্সেস ট্রেন্ড

নতুনদের জন্য চট্টগ্রামের ম্যাচে ওভার/আন্ডার বাউন্ডারি মার্কেট অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। এখানে দলীয় ওভার সিক্সেস (Team Sixes) এবং ম্যাচ টোটাল রান্স মার্কেটে ইতিবাচক প্রবণতা থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যদি ম্যাচটি বিকেলের আলোয় অনুষ্ঠিত হয়, তবে শিশিরের প্রভাব থাকবে না। সে ক্ষেত্রে পিচ শুষ্ক থাকে এবং প্রথম ইনিংসের স্কোর বেশি নির্ভরযোগ্য হয়। প্রতিটি ম্যাচের সময়সূচী ও কন্ডিশন যাচাইকৃত ডেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সঠিক পিচ বিশ্লেষণ বেটিং ফলাফলে প্রভাব ফেলে

সঠিক পিচ বিশ্লেষণ বেটিং ফলাফলে প্রভাব ফেলে

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আর্দ্র উইকেটে পেস বোলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ ঘাসের ছোঁয়া পেস বোলারদের জন্য প্রথম কয়েক ওভারে চমৎকার সহায়তা তৈরি করে। সকাল বা দুপুরের প্রথম ইনিংসে বাতাস এবং বাতাসের আর্দ্রতা (Humidity) নতুন বলে সুইং সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। সিলেটে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম ৩ ওভারে উইকেট পতন বা কম রানের হার অন্যান্য ভেন্যুর তুলনায় প্রায় ১৯% বেশি। ট্রেডিং অ্যানালিস্টরা সিলেটের জন্য পাওয়ারপ্লে রানের জন্য বিশেষ মার্জিন নির্ধারণ করে থাকেন।

মেঘলা আকাশে পেসারদের প্রথম স্পেলের ইন-প্লে সুযোগ

আপনি যখন সিলেটে ম্যাচ কাভার করবেন, তখন পেসারদের প্রথম স্পেলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রস্তুত স্ট্র্যাটেজির অংশ হওয়া উচিত। বিশেষ করে ওভারকাস্ট কন্ডিশন বা মেঘলা আকাশ থাকলে বল শূন্যে বাতাসে মুভ করে। নিচে বাংলাদেশের প্রধান তিনটি ভেন্যুর গড় পিচ কন্ডিশন ও পারফরম্যান্স মেট্রিকসের একটি তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

ভেন্যুর নাম গড় প্রথম ইনিংস রান স্পিন বোলারদের প্রভাব (%) পেস বোলারদের প্রভাব (%) চেজিং দলের জয়ের হার (%)
মিরপুর (ঢাকা) ১৪৫ ৬৮% ৩২% ৪৮%
জহুর আহমেদ (চট্টগ্রাম) ১৭২ ৩৫% ৬৫% ৬২%
সিলেট স্টেডিয়াম ১৫৮ ৪৫% ৫৫% ৫৪%
আরো দেখুন  বিশ্বকাপ ক্রিকেট বেটিং এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান ও রিসার্চ গাইড

প্রাথমিক ধসের পর মিডল ওভারে লাইভ অডস মূল্যায়ন

সিলেটে প্রথম ইনিংসে দ্রুত ২-৩টি উইকেট পতন হলে প্রতিপক্ষ দলের ম্যাচ অডস ১.৫০ থেকে লাফিয়ে ২.৪-এ উঠে যেতে পারে। তবে সিলেটের উইকেট মিডল ওভারে স্থির হয়ে যায়, ফলে ব্যাটিং সহজ হয়। তাই প্রাথমিক ধসে আতঙ্কিত না হয়ে লাইভ ইন-প্লে মার্কেটে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মূল্যভিত্তিক বাজি (Value Bet) খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিপিএল ক্রিকেট বেটিং গাইড: ইন-প্লে বা লাইভ পিচ কন্ডিশন পরিবর্তনের সাথে অডস সমন্বয়

একটি ডাবল-হেডার ম্যাচে (একই দিনে একই মাঠে দুটি ম্যাচ) পিচ কীভাবে বদলে যায়, তা বোঝা একজন সফল ট্রেডারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দিনের প্রথম ম্যাচে উইকেট যে আচরণ করে, সান্ধ্যকালীন দ্বিতীয় ম্যাচে সেই একই স্ট্রিপ অনেক সময় আলগা হয়ে যায় বা স্পাইক মার্কে বোলিং ফুটপ্রিন্ট তৈরি হয়। আপনি যদি বিপিএল ক্রিকেট বেটিং পিচ কন্ডিশন কৌশল ভালোভাবে প্রয়োগ করতে চান, তবে ম্যাচের ১০ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে পিচের ভেতরের ভাঙন বা ধুলো ওড়ার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

পিচ ভাঙনের সময় লাইভ রান রেটের পরিবর্তন বিশ্লেষণ

যখন লাইভ ম্যাচ চলাকালীন পিচ দ্রুত ভেঙে যেতে শুরু করে, তখন ইন-প্লে লাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রথম ১০ ওভারে যদি রান রেট ৮.৫ থাকে, কিন্তু পিচ থেকে বল থমকে আসা শুরু করে, তবে শেষ ৫ ওভারে রান তোলার গড় ৬.৫-এ নেমে আসতে পারে। বুকমেকার অ্যালগরিদম অনেক সময় এই পিচ পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে ধরতে পারে না। এই সুযোগে একজন সচেতন ব্যবহারকারী আগে থেকেই ‘পাওয়ার সার্জ’ বা ‘ডেথ ওভারস’ রানের আন্ডার লাইনে বাজি ধরে গাণিতিক সুবিধা পেতে পারেন।

লাইভ অডসের মার্জিন ও ইমোশনহীন গাণিতিক বাজি

লাইভ অডসের মার্জিন সাধারণত ৪.৫% থেকে ৬.০% এর মধ্যে পরিবর্তিত হয়। যদি পিচের কন্ডিশন কোনো নির্দিষ্ট বোলিং আক্রমণের অনুকূলে চলে যায়, তবে ম্যাচের বিজয়ী দল নির্ধারণী অডসে বড় পরিবর্তন সূচিত হয়। ইন-প্লে মার্কেটে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইমোশন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অন-ফিল্ড তথ্য এবং ইমপ্লাইড প্রবাবিলিটির গাণিতিক হিসেব ব্যবহার করাই শ্রেয়।

TK11 প্ল্যাটফর্মে পিচ তথ্যের সহজ ব্যবহার

TK11 প্ল্যাটফর্মে পিচ তথ্যের সহজ ব্যবহার

দিনের বেলা ও সান্ধ্যকালীন ম্যাচের ভিন্ন উইকেটে টস বিজয়ী দলের সিদ্ধান্ত

বিপিএলের সময়সূচীতে দুপুর ১:৩০টা এবং সন্ধ্যা ৬:৩০টার দুটি ভিন্ন শিফট থাকে। দুপুরের ম্যাচে সূর্যের তাপ উইকেটের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে পিচ শক্ত ও শুষ্ক থাকে। শুষ্ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে ব্যাটাররা ভালো বাউন্স পান, কিন্তু খেলা যত এগোয় মাঠ তত ধীরগতির হয়ে পড়ে। এর ফলে দুপুরের ম্যাচে আগে ব্যাটিং করা দল (Batting First) ৫৪% ম্যাচে জয়লাভ করে।

সান্ধ্যকালীন ম্যাচে বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও ক্যাচ মিসের সম্ভাবনা

অন্যদিকে, সান্ধ্যকালীন ম্যাচে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায় এবং বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ঘাসের ওপর জমা হয়। এর সাথে যদি আমাদের ফুটবল বেটিং কৌশলের তুলনা করি, যেমন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ বেটিংয়ের তুলনা করার সময় আমরা আবহাওয়ার প্রভাব মূল্যায়ন করি, ঠিক তেমনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও সান্ধ্যকালীন কন্ডিশন বলের গ্রিপ ও সুইং সম্পূর্ণ বদলে দেয়। সন্ধ্যায় আদ্রতার কারণে ফিল্ডারদের কাছে বল পিছলে যায় এবং ক্যাচ মিসের হার প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পায়।

টসের সিদ্ধান্ত এবং জয়ের ইমপ্লাইড প্রবাবিলিটি পরিবর্তন

টসের সময় অধিনায়ক পিচ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যখন সিদ্ধান্ত জানান, তখনই বাজারে অডস মুভমেন্ট শুরু হয়। দুপুরের খেলায় টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলে দলের জয়ের ইমপ্লাইড প্রবাবিলিটি ৫% পর্যন্ত বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে, সান্ধ্যকালীন খেলায় টস জিতে ফিল্ডিং নিলে সেই একই দলের জয়ের সম্ভাবনা তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই ছোটখাটো সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারলেই আপনার দীর্ঘমেয়াদী জয়ের অনুপাত ইতিবাচক থাকবে।

পুরনো রোল করা ব্যবহৃত পিচে টপ-অর্ডার ব্যাটারদের আউট হওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন

টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে যখন টানা ৮-১০টি ম্যাচ খেলা হয়ে যায়, তখন পিচ তার আসল শক্তিমত্তা হারায়। এই ব্যবহৃত (Used) উইকেটগুলোতে অসমান বাউন্স (Uneven Bounce) তৈরি হয়—কোনো বল হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে আবার কোনো বল স্কিড করে নিচু হয়ে যায়। এই অবস্থায় টপ-অর্ডার ওপেনিং ব্যাটারদের পাওয়ারপ্লেতে আউট হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩৩% বেড়ে যায়।

ব্যবহৃত উইকেটে টপ-অর্ডার ব্যাটারদের রান্স আন্ডার স্ট্র্যাটেজি

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত রানের বাজারে (Player Runs) বাজি ধরার আগে পিচটি নতুন নাকি ব্যবহৃত তা যাচাই করা জরুরি। যে ওপেনাররা সাধারণত ব্যাক-ফুটে স্কয়ার কাট বা পুল শটে অভ্যস্ত, অসমান বাউন্সের উইকেটে এলবিডব্লিউ (LBW) বা বোল্ড হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সবচেয়ে বেশি থাকে। ব্যবহৃত পিচে ওপেনিং ব্যাটারদের ‘রান্স আন্ডার’ মার্কেট প্রায়শই অত্যন্ত নিরাপদ একটি পথ তৈরি করে দেয়।

ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা থেকে একজন ট্রেডার যে বিষয়গুলো উইকেটে পর্যবেক্ষণ করেন, তা নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:

  • পিচের গুড লেংথ স্পটে কোনো ফাটল বা ঘাসহীন উন্মুক্ত মাটি রয়েছে কিনা।
  • টসের সময় দুই অধিনায়কের মন্তব্য—উইকেটকে ড্রাই বা ক্র্যাকি বলা হয়েছে কিনা।
  • প্রথম ২ ওভারে বলের বাউন্স পরীক্ষা—ব্যাটসম্যানের পেটের ওপরে আসছে নাকি হাঁটু সমান থাকছে।
  • আউটফিল্ডের গতি—মাঠের ঘাস শুকনো নাকি আর্দ্রতার কারণে বলের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
  • উইকেটে পেসারদের কাটার ব্যবহারের কার্যকারিতা এবং থমকে আসার হার।

দায়িত্বশীল বেটিংয়ে পিচ কন্ডিশন জানা জরুরি

দায়িত্বশীল বেটিংয়ে পিচ কন্ডিশন জানা জরুরি

দীর্ঘমেয়াদী টুর্নামেন্ট ব্যাংকরোল ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল বেটিং সিদ্ধান্ত

বিপিএল টুর্নামেন্টটি প্রায় এক মাস ধরে চলে, তাই একদিনে বা একটি পিচ প্রেডিকশনে সমস্ত টাকা বাজি ধরা সবচেয়ে বড় ভুল। প্রতিটি ম্যাচের কন্ডিশন আলাদা হলেও, আপনার ব্যাংকরোল ম্যানেজমেন্ট হওয়া উচিত শৃঙ্খলাবদ্ধ। আমরা পরামর্শ দিই যে আপনার মোট বেটিং ওয়ালেটের ১% থেকে সর্বোচ্চ ৩% পরিমাণ টাকা একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রাখবেন। কন্ডিশন শতভাগ অনুকূলে থাকলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।

স্থানীয় পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন

আপনার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সহজ করতে স্থানীয় স্বনামধন্য পেমেন্ট মাধ্যম যেমন বিকাশ, নগদ এবং রকেট ব্যবহার করা সরাসরি সুবিধাজনক। এই পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মাধ্যমে আমানত জমা এবং উত্তোলন নিশ্চিত করা যায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে। এর ফলে বাড়তি কোনো ঝামেলা ছাড়াই আপনি সঠিকভাবে লাইভ মার্কেটের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন। দ্রুত লেনদেনের সুবিধা থাকার অর্থ এই নয় যে আপনি অতিরিক্ত বাজি ধরবেন; প্রতিটি লেনদেনের আগে আপনার নির্দিষ্ট বাজেট সীমার কথা মনে রাখুন।

দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য অর্জন ও দায়িত্বশীল গেমিং নীতি অনুসরণ

সবশেষে মনে রাখবেন, বিপিএল ক্রিকেট বেটিং থেকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে হলে ডাটা-চালিত শৃঙ্খলা এবং দায়িত্বশীল গেমিং নীতি মেনে চলা আবশ্যিক। জুয়া কোনো আর্থিক উপার্জনের নিশ্চিত উৎস নয়, বরং এটি একটি বিনোদন মাধ্যম। অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই ১৮+ বছর বয়সী হতে হবে। নিজের বাজেটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখুন, একটি নির্দিষ্ট দৈনিক জমার সীমা নির্ধারণ করুন এবং আবেগের বশে কখনোই লস রিকভার করার চেষ্টা করবেন না। সঠিক পিচ তথ্য ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা আপনাকে বাজারে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।

আরও জানুন: বিশ্বকাপ ক্রিকেট বেটিং এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান ও রিসার্চ গাইড

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।